বাড়িতে বিরিয়ানি বানাবেন কিভাবে

এটা প্রায় হলফ করে বলা যায় আপনাদের প্রত্যেকের বাড়িতেই এমন কেউ না কেউ আছেন যাদের পছন্দের খাবারের মধ্যে বাকি সমস্ত খাবার একদিকে, বিরিয়ানি আর একদিকে।

বিরিয়ানি নামটা শুনলেই আমাদের প্রায় সবারই চোখের সামনে ভেসে ওঠে চিকেন বা মটন এর পিস যুক্ত একটা আস্ত ডিম দেওয়া এবং অবশ্যই একটা বড় আলু যুক্ত একথালা ভর্তি বিরিয়ানি।

তো দোকানের দ্বারস্থ না হয়ে যদি চটজলদি বাড়িতেই বানিয়ে নেওয়া যায় এই পছন্দের খাবারটি, তাহলে কেমন হয় ? আসুন, জেনে নেওয়া যাক কিভাবে আপনি বাড়িতে বিরিয়ানি রাঁধবেন , তার প্রণালী।

মাংস রান্নার সামগ্রী ও প্রণালী

প্রথমেই বলি চিকেন বা মটন যেই বিরিয়ানি খেতে চান তার জন্য চিকেন বা মটন টা ভালো করে তৈরী করতে হবে। এবার আসি কি কি দরকার হবে, তার লিষ্টে ।

প্রয়োজনীয় সামগ্রী

চিকেন / মাটন - ১ কিলো
বড় সাইজ পেঁয়াজ – ৪ টে
বড় সাইজ আলু – ৩ টে কি ৪ টে (আপনার সুবিধে মতো)
টক দই – ১০০ গ্রাম
গোটা গরম মশলা – ১ প্যাকেট
লঙ্কা গুড়ো – ২ চামচ
জিরে গুড়ো – দুই চামচ
লবণ – দুই চামচ
সাদা তেল – এক কাপ
আদা বাটা – দুই চামচ
রসুন বাটা – দুই চামচ

প্রণালী

প্রথম ধাপ
প্রথমে মাংস কে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে।
দ্বিতীয় ধাপ
কড়াইতে এককাপ সাদা তেল দিয়ে তার মধ্যে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে লাল করে ভেজে নিতে হবে। এর মধ্যে থেকে কিছুটা ভাজা পেঁয়াজ আলাদা করে তুলে রাখুন এবং বাকিটা কড়াইতেই থাকতে দিন।
তৃতীয় ধাপ
এর পর এর মধ্যে একে একে আদা বাটা , রসুন বাটা এবং মাংসটা দিন ও একটু সময়ের জন্য ঢাকা দিয়ে রাখুন।
চতুর্থ ধাপ
ঢাকা তুলে নিয়ে একটু নাড়াচাড়া করে একে একে এর মধ্যে দিন লঙ্কাগুড়ো, জিরে গুড়ো, টক দই (দেওয়ার আগে ফেটিয়ে নেবেন) , ও কেটে রাখা আলু । এরপর একটু নাড়াচাড়া করে ঢাকা দিয়ে রাখুন।
পঞ্চম ধাপ
কষানো হয়ে গেলে গরম মশলা (গোটা ব্যাবহার করলে পেষ্ট করে নিন) দিয়ে একটু নাড়াচাড়া করে নামিয়ে নিন।বিরিয়ানিতে দেওয়ার জন্য আপনার মাংস রেডি হয়ে গেছে।

রাইস তৈরির উপকরণ ও প্রণালী

এবার আমরা এসে পরেছি দ্বিতীয় ধাপে। এখানে মূল বিরিয়ানি অর্থাৎ রাইসটিকে প্রস্তুত করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ ও পদ্ধতি বিষয়ে আসুন জেনে নিই।

রাইসের জন্য যা যা প্রয়োজন

- বাসমতি চাল – এক কেজি
- তেজপাতা – তিনটি
- গোটা গরম মশলা
- লবন – চার চামচ
- ঘি – চার থেকে পাঁচ চামচ
- ক্যাওড়ার জল – এক চামচ
- তিন থেকে চার চামচ দুধ
- বিরিয়ানি কালার

প্রণালী

প্রথম ধাপ
ভাত করার তিরিশ মিনিট আগে চাল ধুয়ে জলে ভিজিয়ে রাখুন।
দ্বিতীয় ধাপ
এবার একটি বড় পাত্রে পরিমাণ মতো জল দিয়ে তার মধ্যে একে একে তেজপাতা, গোটা গরম মশলা,চার চামচ লবন দিয়ে দিন।
তৃতীয় ধাপ
জল ফুটে উঠলে তার মধ্যে ভিজিয়ে রাখা চাল দিয়ে দিন।
চতুর্থ ধাপ
এবার দুটিকে মিশ্রিত করার জন্য প্রস্তুত হন।

মাংস এবং ভাতকে মেশাবেন কিভাবে

এবারে এই দুটি ভাগে মাংস এবং ভাতকে প্রস্তুত করার পরে এই দুটিকে মেশানোর পালা। আসুন, ধাপে ধাপে দেখে নেওয়া যাক মেশানোর পদ্ধতিটি ।

প্রথমে এর জন্য একটি বড়মুখের পাত্রকে রেডি রাখুন।

প্রণালী

প্রথম ধাপ
প্রথমে কিছুটা ভাত দিয়ে তার ওপরে একে একে এক চামচ ঘি,মাংস,এক চামচ ক্যাওড়ার জল এই দিয়ে একটা স্তর তৈরী করে নেবেন
দ্বিতীয় ধাপ
বাকি ভাত টুকু তার ওপরে দিয়ে আগের স্তরে যা যা দিয়েছিলেন তা একই ভাবে ব্যাবহার করবেন।
তৃতীয় ধাপ
এই ভাবে আপনি চাইলে অনেক গুলো স্তর তৈরী করতে পারেন।তবে এখানে মনে রাখবেন শেষ স্তরটিতে ভাজা পেঁয়াজটি (মাংস করার আগে তুলে ্রেখেছিলেন) দিয়ে দেবেন,এবং অল্প দুধের সাথে বিরিয়ানি কালার মিশিয়ে অ্যাড করবেন।
চতুর্থ ধাপ
এবার এই পুরো কাজটি শেষ হয়ে গেলে পাত্রটিকে পুনরায় ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য আঁচে বসান।পাত্রের মুখের সাথে ঢাকনা যেন ভালো করে বন্ধ করা থাকে। পারলে একটু আটা জলের সাথে গুলে চারদিক সিল করে দিন। এবার ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর আঁচ থেকে নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।

তিনভাগে পুরো কাজটি একটু সময়সাপেক্ষ ঠিকই, কিন্তু একবার করে ফেললে খাওয়ার তৃপ্তিই এতক্ষনের ক্লেশকে ভুলিয়ে দেবে।

তাহলে আর কি, কোনও এক ছুটির দিনের দুপুরে আপনার বাড়ি ভরে উঠুক বিরিয়ানির গন্ধে, আর আরও নিত্যনতুন রেসিপি জানতে চোখ থাকুক bengalibuddy -র ‘রান্নাঘর’ সেগমেন্টে ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

17 − 1 =

Pin It on Pinterest

Share This